27.5 C
Dhaka
আগস্ট ২০, ২০২২

কিউবায় কাস্ত্রো যুগের অবসান

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৮৯ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো। স্থানীয় সময় শুক্রবার দলীয় কংগ্রেসে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টম কংগ্রেসে রাউল কাস্ত্রোর দলীয় সেক্রেটারির পদ ছাড়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে কিউবায় ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা কাস্ত্রো যুগের অবসান হচ্ছে।

রাউল অবশ্য বলেছেন, অপেক্ষাকৃত তরুণদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য পদ ছাড়ছেন তিনি।

চার দিনের দলীয় কংগ্রেসের প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার এক ভাষণে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে রাউল কাস্ত্রো বলেন, ‌‘ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব শেষ করেছি। নবীন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের ভার তুলে দিতেই আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ভাষণে রাউল বলেন, তার আশা নবীন নেতৃত্ব নিখাদ আবেগ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনায় দলকে এগিয়ে নেবে এবং দলীয় আদর্শের প্রতি অনুগত থাকবে। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬২ সাল থেকে বাণিজ্য অবরোধ দিয়ে রেখেছে।
তবে একদলীয় শাসনব্যবস্থার দেশ কিউবায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান অর্থাৎ ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন সে সম্পর্কে কিছু বলেননি রাউল কাস্ত্রো। তবে তিনি উত্তরসূরী হিসেবে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেলের নাম ইঙ্গিত করেছিলেন।

শুক্রবার রাজধানী হাভানায় দলের কয়েকশ প্রতিনিধির সামনে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে রাউল বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি, পিতৃভূমি, বিপ্লব ও সমাজতন্ত্র রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকবো।’ ওই ভাষণে তিনি প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের প্রশংসাও করেছেন।

২০১৮ সালে রাউল প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়লে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ৬০ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল।

রাউল কাস্ত্রোর বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার গোড়াপত্তন ঘটে।

ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে কিউবার যে ‘ঐতিহাসিক প্রজন্ম’ মার্কিন সমর্থিত তৎকালীন স্বৈরশাসক বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটিয়েছিল, রাউল কাস্ত্রোর এমন ঘোষণার মধ্য দিয়ে কিউবায় সেই প্রজন্মের নেতৃত্বের অবসান ঘটতে চলেছে।

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ফিদেল কাস্ত্রো কিউবার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর স্বাস্থ্যগত কারণে ২০০৮ সালে ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০১৬ সালে মৃত্যু হয় ফিদেল কাস্ত্রোর।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

করোনাকালে ব্যবসা বেড়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: করোনাকালে ব্যবসা বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহকারী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর। সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যভেদে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩০০ শতাংশ।  ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

  • ই-ক্যাব বলছে, করোনাকালীন সময়ে যেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে সেখানে ই-কমার্সের অনেক প্রতিষ্ঠান অতীতের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ডেলিভারি দিয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ৫০ হাজার মানুষের।

সূত্র জানায়, করোনাকালীন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো করেছে। নিত্যপণ্য ও খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষেত্রবিশেষ ৩০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে। ২০১৯ সালেও দেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশ। ২০২০ সালে এসে সেই প্রবৃদ্ধি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০২০ সালের শেষ ৮ মাসে ই-কমার্সে শুধুমাত্র নিত্যপণ্য লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ডেলিভারি হচ্ছে।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আরও ভালো সেবা দিতে পারবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। আশা করছি, তাদের প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। ই-কমার্স সব সময়ই সম্ভাবনাময়। করোনাকালীন সময়ে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ভালো করছে। নিয়ম মেনে গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা দেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আর গ্রাহককেও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান ফেসবুক পেজ খুলে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে। যা গ্রাহকের বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।

করোনার সময় যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে ভালো করছে তার মধ্যে অন্যতম চালডাল ডটকম। এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইসরাত জাহান বলেন, গত বছর মার্চে ৩ হাজার ডেলিভারি হয়। দুই এক মাসের মধ্যে এই অর্ডার চলে যায় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজারের। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করি ডেলিভারি দেওয়ার। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে কয়েকগুণ ডেলিভারি বেড়েছে। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ডাইরেক্ট ফ্রেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক এসএম শাহনেওয়াজ বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। কয়েক গুণ বেড়েছে ডেলিভারির সংখ্যা। অনলাইন কেনাকাটায় গ্রাহকরা এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। ফলে আমাদের ব্যবসাটাও ভালো যাচ্ছে। গত বছর করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর থেকে অনলাইন কেনাকাটা বেড়ে যায়। কিন্তু সেভাবে প্রস্তুতি না থাকায় গ্রাহকদের শতভাগ সেবা দিতে পারিনি আমরা। এবার আমাদের শুরু থেকেই প্রস্তুতি ছিল। শতভাগ মানসম্মত সেবা নিয়েই আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার জানান, গত বছর করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। ওইসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিত্যপণ্য ই-কমার্সের মাধ্যমে বিক্রি সচল রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও অনলাইনে নিরাপদে পণ্য ও সেবা সচল রাখার ব্যাপারে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মূলত এসব কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালোভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে। ফলে প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ 

আরও সংবাদ

বিশ্ববাজারে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম

কমিউনিটি নিউজ

শ্রীলঙ্কায় এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দাম বাড়লো ৭৫ শতাংশ

কমিউনিটি নিউজ

৩ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে ইইউ’র ভুট্টার আমদানি

কমিউনিটি নিউজ

কানাডার ৯৪ লাখ টন যব উৎপাদনের সম্ভাবনা

কমিউনিটি নিউজ

গোপনে নৌঘাঁটিতে আশ্রয় রাজাপক্ষের, বিক্ষোভে উত্তাল শ্রীলঙ্কা

কমিউনিটি নিউজ

ইউক্রেনে আসলে কত লোক মারা গেলো?

কমিউনিটি নিউজ