33 C
Dhaka
আগস্ট ১২, ২০২২

১২৬ বার ‘দিদি’ ডাকলেন মোদি

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: শনিবার ভোট চতুর্থীতে রাজ্যে জোড়া সমাবেশ করলেন বিজেপি নেতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিলিগুড়িতে বক্তব্য রাখেন ৪৪ মিনিট আর কৃষ্ণনগরে ৩৪ মিনিট। সব মিলিয়ে ৭৮ মিনিট। আর তার মধ্যেই মোট ১২৬ বার ‘দিদি’ ডাক শোনা গেল মোদীর গলায়।

বিজেপি-র আরেক নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মমতা দিদি’ বলে সম্বোধন করেন। এরপরই মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। খবর আনন্দবাজারের

মোদি-র গলায় ‘দিদি’ ডাক শুনতে অবশ্য মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সেই ২০১৪ সাল থেকে বাংলায় রাজনৈতিক মঞ্চ পেলেই ‘দিদি’, ‘দিদি’ করেন মোদি। রাজ্যের বাইরে সভা থাকলেও বাংলার প্রসঙ্গ এলে ‘দিদি’, ‘দিদির দল’, ‘দিদির সরকার’ বলেন তিনি। কিন্ত বাংলা সফরে তার আক্রমণের মূল লক্ষ্যটাই যেহেতু মমতা, তাই ‘দিদি’ উচ্চারণ আরও বেড়ে যায়।

আরো পড়ুন:

‘বাংলাদেশ-ভারত রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ

ক্ষুদ্র ও কুটি শিল্পে আরো দুটি প্রণোদনা দেবে সরকার

১০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা চায় গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা

২০১৪ সালের লোকসভা, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ‘দিদি’ ডাক শোনা গেলেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে নতুন সংযোজন হয় নানা সুরে ‘দিদি-ই-ই-ই’ বলা। তবে ২০২১-এর নির্বাচনি লড়াইয়ে বাংলায় সেই ডাক ও সুর যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। আবার প্রতি দফায় ভোটগ্রহণ পর্ব যত এগোচ্ছে ততই যেন বক্তৃতায় ‘দিদি’ ডাক বাড়ছে। চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণের দিন যেন সেটা সবচেয়ে বেশি শোনা গেল।

শনিবার দুই বক্তব্যে কত বার দিদি বলেছেন মোদি তা গুণে দেখেছে আনন্দবাজার। দেখা গেছে, শিলিগুড়িতে ৪৪ মিনিটে ৬৮ বার আর কৃষ্ণনগরে ৩৪ মিনিটে ৫৮ বার দিদি ডেকেছেন তিনি।

মোদি-র এমন ডাক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের এক জনসভায় দেওয়া ভাষণে মমতা বলেন, “উনি রোজ ‘দিদি’, ‘ও দিদি’ বলে ব্যঙ্গ করছেন। আমার তাতে কোনও সমস্যা নেই। আমার গুরুত্ব রয়েছে বলেই এসব করছেন।’’

মমতা নিজে কোনও সমস্যা নেই বলে উল্লেখ করলেও দলের নারী নেত্রীরা এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। শশী পাঁজা, জুন মালিয়া এবং অনন্যা চক্রবর্তীর মতো নেত্রীরা মোদির এমন সম্বোধনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে এমন ভঙ্গিতে ডেকে আদতে বাংলার নারীদের অসম্মান করছেন প্রধানমন্ত্রী। মেয়েদের টিপ্পনী কাটতে এই ধরনের বাচনভঙ্গি ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মোদির মুখে খুব বেশি শোনা যাচ্ছে যে শব্দগুলো তার মধ্যে কাটমানি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, তুষ্টিকরণ প্রভৃতি থাকলেও সবকিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ‘দিদি’। শুধু ডাকাই নয়, নিত্য নতুন সুর ও ছন্দও আনছেন মোদি।

শনিবার যেমন একই বাক্যে তিন বার ‘দিদি’ বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ‘দিদি, ও-দিদি, আদরণীয় দিদি’ বলে নানা অভিযোগ তুলেছেন বা প্রশ্ন করেছেন।

৩০ মিনিটের বক্তব্যে যদি ৫০ বার ‘দিদি’ বলেন তবে তার মধ্যে বার দশেক প্রথম ১০ মিনিটে। শেষ ১০ মিনিটেও বার দশেক। মাঝের সময়টা যেন ধ্রুপদী সঙ্গীতের ভাষায় ‘ঝালা’-য় ওঠে ‘দিদি’ ডাক। ওই ১০ মিনিটে বার তিরিশেক ‘দিদি’ ডেকে নেন।

মোদি-র বক্তব্য শুনে আরও একটা বিষয় স্পষ্ট যে, তিনি এই ‘দিদি’ বলায় বেশ মজাই পান। আর হাততালিও পান। কর্মী-সমর্থকদের সেই উচ্ছ্বাসও যে তিনি পছন্দ করছেন সেটাও বোঝা যায় শনিবারের দুই ভাষণে। যত বার তিনি সুর কেটে ‘দিদি, ও-দিদি, আদরণীয় দিদি’ বলেছেন তত বারই বক্তৃতায় লম্বা যতি এনেছেন। কথা থামিয়ে জনতাকে তালি দেওয়ার সময় দিয়েছেন। যেখানে থেমেছিলেন ফের যেন সেখান থেকেই শুরু করেন।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

১০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা চায় গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা

কমিউনিটিনিউজ ডেস্ক: শ্রমিকদের নামে গত বছরের মতো এবারও ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা চান পোশাক খাত। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা তহবিল নিয়ে অচিরেই সরকারের সাথে বৈঠকে বসবেন। এছাড়াও প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তৈরি পোশাক মালিকাদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।

তিনি বলেন, আমরা গত মাসেই ধারণা করেছিলাম, দেশে নতুন করে করোনার প্রভাব বাড়তে পারে। করোনার এই অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে আমরা সরকারের কাছে দুই দফায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। এর মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা আর করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরও ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চাচ্ছি। তবে তার আগে এখন প্রথম কাজ হচ্ছে, পোশাক খাতকে ১৪ এপ্রিল থেকে সরকার ঘোষিত লকডাউনের আওতার বাইরে রাখা।

  • এদিকে অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, গতবারের মতো দীর্ঘ মেয়াদে গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হলে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন প্রণোদনার দরকার হবে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন বোনাসের জন্য নতুন প্রণোদনার দরকার হবে। সামনে ঈদ। বেতন-বোনাস একসঙ্গে দেওয়া গার্মেন্ট মালিকদের পক্ষে সম্ভব হবে না। ফলে পুরনো প্রণোদনার টাকা ফেরতের জন্য সময় বাড়িয়ে দিতে হবে। নতুন করে আরও দশ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা লাগবে।

আরো পড়ুন:

জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার গার্মেন্টস কর্মী

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ’র অভিযোগ

পাক যুবাদের বাংলাদেশ সফর স্থগিত

তিনি আরো বলেন, আর যেভাবে কারখানা চলছে, এভাবে কারখানা চালিয়ে রাখতে পারলে ব্যাংকের টাকাও একদিন পরিশোধ করা যাবে। কিন্তু কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে মালিকরা পথে বসে যাবে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলছেন, কারখানা চালু থাকলে নতুন প্রণোদনা নাও লাগতে পারে। তবে আগের প্রণোদনা থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের সময় বাড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজন হলে আমরা নতুন প্রণোদনা সরকারের কাছে চেয়ে নেবো। তার আগে গার্মেন্টস খাতকে লকডাউনের আওতার বাইরে রাখতে হবে।

বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সামনে যেহেতু ঈদ বা রোজা রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে আমাদের অনেকেরই দেনা রয়েছে। সে জন্য নতুন করে শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের জন্য অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা আমরা বলছি।

গত বছরের চেয়ে এবার প্রণোদনা বেশি লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, গতবছর অনেকেই ঋণ পায়নি। তার মতে, ৫০ শতাংশ কারখানার মালিক এই প্রণোদনা সুবিধা পেয়েছেন, বাকী ৫০ শতাংশ পাননি। শ্রমিকদের জন্য নতুন করে ১০ হাজার কোটির ঋণ ছাড়াও সরকার আগেরবার যে সুবিধাগুলো দিয়েছে, সেই সুবিধা যাতে সত্যিকারভাবে কাজে লাগাতে পারি সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

এ জন্য এইসব প্যাকেজ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য দীর্ঘ সময় দিতে হবে। যেমন, শ্রমিকদের জন্য যে ঋণ নিয়েছি, সেটা ১৮ কিস্তিতে শোধ দেওয়ার বিধান রয়েছে। আমরা এটাকে ৬০ কিস্তিতে দিতে চাই। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৮ কিস্তিতে অধিকাংশ কারখানার মালিকের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে নতুন রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। হাসপাতালগুলোয় রোগীদের জায়গা হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

এর আগে গত ২ মার্চ একটি হোটেল করোনা পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পখাতে যে বিপর্যয়কর অবস্থা তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে বিকেএমইএর সদস্যদের নিয়ে এক বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আসন্ন দুটি ঈদে শ্রমিকদের বোনাস ও বেতন-ভাতা পরিশোধে নতুন করে আরও ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রণোদনা চায় পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ পোশাক খাতের সব মালিকরা। এছাড়া পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের কিস্তি পরিশোধে কমপক্ষে ১৪-১৫ বছর সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। যদিও পরবর্তীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা যোগ করা হয়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দুই ঈদ পর্যন্ত পোশাক শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে নতুন করে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রণোদনা দরকার। নতুন প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজ এবং আগের প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজের পরিমাণ একীভূত করে উদ্যোক্তাদের আরও এক বছর সময় দিতে হবে। এছাড়া ১৮ মাসের পরিবর্তে কমপক্ষে ৩৬ মাসের কিস্তি পরিশোধের সময় দিতে হবে। এর ফলে পোশাকখাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অন্যথায় এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ৪৫ লাখ মানুষ এবং পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষ ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

কমিউনিটিনিউজ/ এমএএইচ

আরও সংবাদ

বিশ্ববাজারে কমেছে গম ও ভুট্টার দাম

কমিউনিটি নিউজ

শ্রীলঙ্কায় এক ধাক্কায় বিদ্যুতের দাম বাড়লো ৭৫ শতাংশ

কমিউনিটি নিউজ

৩ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে ইইউ’র ভুট্টার আমদানি

কমিউনিটি নিউজ

কানাডার ৯৪ লাখ টন যব উৎপাদনের সম্ভাবনা

কমিউনিটি নিউজ

গোপনে নৌঘাঁটিতে আশ্রয় রাজাপক্ষের, বিক্ষোভে উত্তাল শ্রীলঙ্কা

কমিউনিটি নিউজ

ইউক্রেনে আসলে কত লোক মারা গেলো?

কমিউনিটি নিউজ